অটিস্টিক শিশুদের যোগাযোগ প্রক্রিয়ায় দক্ষ করার ৮টি উপায়।

অটিস্টিক শিশুদের একটি প্রধান সমস্যা হল যোগাযোগের ক্ষেত্রে দক্ষতার খামতি। তথ্য গ্ৰহন করা, বুঝতে পারা এই শিশু দের কাছে বেশ জটিল। অন্য ব্যাক্তির ভাষা বুঝতে পারা ,তার শরীরের ভাষা বুঝতে পারা, ইশারা বুঝতে পারা এদের পক্ষে অসম্ভব। তাই এই সব শিশু দের চাহিদা ,মতামত, আবেগ অনুভূতি বোঝার জন্য এদের যোগাযোগ এর দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এর জন্য একজন দক্ষ স্পীচ থেরাপিস্ট এর প্রয়োজনীয়তা খুব বেশি।যারা কথা বলতে পারে এবং যারা কথা বলতে পারে না তাদের উভয়ের জন্যই স্পীচ থেরাপিস্ট এর প্রয়োজনীয়তা আছে।

শিশু কে যোগাযোগে সহায়তা করার কৌশল
১) কোনো নির্দেশনা দেওয়ার আগে শিশুর মনোযোগ আকর্ষণের দিকে নজর দিতে হবে।
২)ছোট ছোট করে ভেঙে নির্দেশ দিতে হবে। নির্দেশ সরল হতে হবে।
৩)সবসময় হ্যাঁ সূচক কথা বলতে হবে। এটা করো না এইভাবে না বলে  বলতে পারেন এটা পরে করো।
৩) শিশুর প্রত্যাশিত আচরনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কোনো প্রশ্ন দ্রুত পুনরাবৃত্তি না করে উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
৪) শিশু কে যে কোনো নির্দেশনা অভিনয় করে বুঝিয়ে দিলে তার বুঝতে সুবিধা হবে।যেমন শিশু কে হাত ধুতে বলে ওকে সেটা দেখিয়ে দিতে হবে।যতক্ষন না সঠিক ভাবে করতে পারে ততক্ষন পর্যন্ত অভিনয় করে বারবার দেখিয়ে যেতে হবে।
৫) মৌখিক নির্দেশ বুঝতে না পারলে ছবি দেখিয়ে বুঝিয়ে দিতে হবে।
৬) শিশুর যোগাযোগের  ক্ষমতার দূর্বল জায়গা খুঁজে বের করতে হবে। অনেক শিশু উত্তর জানলেও সঠিক শব্দটি ব্যবহার করতে পারে না।
৭) শিশুকে না বলতে শেখাতে হবে।সে না উত্তর জানলে তাকে আমি জানি না বলতে শেখাতে হবে। তাতে শিশুর না বলতে পারার উদ্বেগ কমবে।
৮) শিশুর আবেগ অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করতে হবে। অনেক সময় শিশু তার রাগ বোঝাতে পারে না। কিন্তু তার আচরনে প্রকাশ পায়।তখন শিশুকে বলতে হবে তুমি খুব রেগেই আছো। তাহলে যখন সে বুঝবে তার রাগ কেউ বুঝতে পারছে তবে সে চাপমুক্ত অনুভব করবে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অটিজম এর কিংবদন্তী টেম্পল গ্ৰ্যান্ডিন

অটিজম এর ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তিমূলক আচরন

অটিজম এবং স্যাভান্ট সিনড্রোম(Autism and Savant syndrome)